ক্লিনিক্যাল বা ডাক্তারি থার্মোমিটার (Clinical Thermometer)

ক্লিনিক্যাল বা ডাক্তারি থার্মোমিটার (Clinical Thermometer)

মানুষের শরীরের তাপমাত্রা (জ্বর) মাপার জন্য যে থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয় তাকে ডাক্তারি থার্মোমিটার বলে। এটা একটি সুবেদি চরম থার্মোমিটার সাধারণত এই থার্মোমিটার ফারেনহাইট স্কেলে দাগাঙ্কন করা থাকে। এই থার্মোমিটারের গঠন এরূপ থাকে যে শরীর থেকে বের করে নেওয়ার পরও এতে শরীরের তাপমাত্রা সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভবপর হয়।

গঠন :

এই থার্মোমিটারে একটি কৈশিক নল থাকে যার এক প্রান্তে একটি বাল্ব D এবং অপর প্রান্ত বন্ধ থাকে। বাল্পের ঠিক উপরে একটি সংকোচন F (Contriction) থাকে এবং এটি পারদপূর্ণ থাকে।

কৈশিক নলটি অপর একটি কাচনল নিয়ে ঢাকা থাকে এবং সেই নলটি ফারেনহাইট স্কেলে 95°- 110°F পর্যন্ত দাগাঙ্কন করা থাকে। প্রত্যেক °F আবার পাঁচ ভাগে ভাগ করা থাকে। সুস্থ শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত 98.4°F হয়। সেখানে একটি বিশেষ দাগ থাকে। সেলসিয়াস। স্কেলে এই থার্মোমিটার 35°C থেকে 43°C পর্যন্ত দাগ কাটা হয়। 37°C স্থানে দাগ কাটা থাকে যেটা সুস্থ তাপমাত্রা নির্দেশ করে।

কার্যপ্রণালি :

প্রথমে থার্মোমিটারটিকে জোরে ঝাঁকিয়ে নিতে হয়। এতে উপরের পারদ বারে ফিরে আসে। এখন থার্মোমিটারটিকে শরীরের সংস্পর্শে যেমন জিহ্বার নিচে রাখলে শরীরের তাপে বারের পারদ প্রসারিত হয়। ফলে ভাগতো কিছু পাৱন নল দিয়ে উপরে উঠে একটি অবস্থানে গিয়ে স্থির হয়। এখন থার্মোমিটারটিকে শরীর থেকে সরিয়ে নিলে F এর নিচের পারদ সংকুচিত হয়ে বালবে ফিরে আসে।

কিন্তু F এর উপরের পারদ সংকোচনের কারণে বাল্বে আসতে পারে না। নলের পরদ স্তম্ভের শীর্ষ অবস্থানের পাঠ শরীরের তাপমাত্রা নির্দেশ করে। এটা পুনরায় ব্যবহার করার পূর্বে বাল্বকে নিচের দিকে রেখে কয়েকবার ঝাঁকিয়ে নিতে হয় যাতে পারদ বালবে প্রবেশ করতে পারে। যেহেতু এই থার্মোমিটার দ্বারা শরীরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মাপা যায় তাই একে এক ধরনের চরম ধর্মোমিটার বলা যায়। বর্তমানে ডিজিটাল থার্মোমিটার পাওয়া যায়। এটা কপালে লাগানোর সাথে সাথে পাঠ পাওয়া যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ